আগের মাসের তুলনায় এপ্রিলে দশমিক ৩ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের জিডিপি। সংকোচনের এ হার বিশ্লেষকদের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। মূলত ব্যবসায় খাতে উচ্চ কর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বিবাদের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় চাপে পড়েছে দেশটি। এ দুই কারণে বেড়েছে চাকরি ছাঁটাই ও বাতিল হয়েছে অনেক বিনিয়োগ পরিকল্পনা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দশমিক ৫ ও মার্চে দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর এপ্রিলে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেল।
এপ্রিলের সংকোচন ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। এটি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকৃত দশমিক ১ শতাংশ সংকোচনের তুলনায় বেশি ছিল।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে স্ট্যাম্প ডিউটির হার বেড়েছে। এ কারণে বাড়ি বিক্রি হঠাৎ কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের পরিষেবা খাত ভুগছে। ফলে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, খাতসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও অন্যান্য ব্যবসার ওপর চাপ পড়েছে। এতে সার্বিকভাবে পরিষেবা খাত সংকুচিত হয়েছে দশমিক ৪ শতাংশ।
ওএনএসের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক লিজ ম্যাকিওন বলেন, ‘ট্রাম্পের “লিবারেশন ডে’’ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাজ্য থেকে ২০০ কোটি পাউন্ডের রফতানি কমেছে। টানা চার মাস প্রবৃদ্ধির পর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের রফতানিতে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ মাসিক পতন দেখা গেছে এবং এটি বেশির ভাগ পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’
অটোমোবাইল শিল্পে উৎপাদন কমিয়ে আনার ফলে দেশটির উৎপাদন খাত সংকুচিত হয়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। আমদানীকৃত গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কের প্রভাব পড়েছে এ খাতে। এছাড়া বছরের শুরুতে সম্প্রসারণ দেখা গেলেও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে উৎপাদন কমেছে এপ্রিলে। এর পেছনেও রয়েছে শুল্ক আরোপের আশঙ্কা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাত ছিল জিডিপিতে একমাত্র ইতিবাচক দিক। এ খাতে দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
জিডিপির এ পরিসংখ্যান ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ একদিন আগেই তিন বছরের ব্যয় পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু এপ্রিলের প্রবৃদ্ধি প্রতিবেদন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।